মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

৭১ এর দৃশ্যপট

১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে উত্তর চট্টলার হাটহাজারী থানার গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে। উত্তর চট্টগ্রামকে উজ্জীবিত করার জন্য হাটহাজারীর মুক্তিপাগল ছাত্র-জনতা রেখেছিল অগ্রণী ভূমিকা। স্বাধীনতাকামী অদম্য সাহসী যুবকদের সংগঠিত করে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য ভারতে প্রেরণের পিছনে এই জনপদের অবদান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

৭১ সালে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বীরগাঁথা বর্ণনা করার আগে গোটা হাটহাজারী জনপদ কেমন ছিল, তার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেয়া প্রয়োজন।

যোগাযোগের ক্ষেত্রে হাটহাজারী :

চট্টগ্রাম শহর থেকে হাটহাজারীর উপর দিয়ে ফটিকছড়ি হয়ে খাগড়াছড়ি এমনকি ভারত সীমান্ত পর্যন্ত সড়ক বিস্তৃত। চট্টগ্রাম শহর থেকে হাটহাজারী হয়ে রাঙ্গামাটি পর্যন্ত রাঙ্গামাটি সড়ক, বড়দিঘির পাড় থেকে সীতাকুন্ড সড়ক ছাড়াও চট্টগ্রাম শহর থেকে নাজিরহাট পর্যন্ত রেল লাইন রয়েছে। অর্থাৎ এই জনপদ বিভিন্ন অঞ্চলের সাথে যোগাযোগের একটি গুরত্বপূর্ণ সংযোগস্থল ছিল উভয় পক্ষের জন্য। চট্টগ্রাম সেনানিবাস হাটহাজারীতে অবস্থিত থাকায় পাক্ হানাদার বাহিনী ঐসব সড়ক দিয়ে সবসময় চলাফেরা করত। অপরদিকে মুক্তিপাগল স্বাধীনতাকামী যুবকেরা চট্টগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ধলই ও ফরহাদাবাদ সংগঠিত হয়ে অত্র এলাকার মুক্তিযোদ্ধা ও সংগঠকদের সার্বিক সহযোগিতায় সশস্ত্র প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য ভারতে যাওয়ার সুব্যবস্থা ছিল। যে স্থান থেকে ভারতে প্রেরণ করা হতো সেই ঐতিহাসিক স্থানটির নাম বংশালঘাট। হাটহাজারীর মধ্যে ধলই ও ফরহাদাবাদ ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের দুর্ভেদ্য দূর্গ। মুক্তিযোদ্ধাদের দূর্গকে নির্মূল করার জন্য পাক্ হানাদার বাহিনীর চারটি সামরিক ঘাঁটির মধ্যে একটি ছিল হাটহাজারী বাসস্ট্যান্ডের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে অদুদিয়া সিনিয়র সুন্নিয়া মাদ্রাসা যা টর্চার সেল নামে পরিচিত ছিলো। বাকি তিনটি ধলই ও ফরহাদাবাদের নিম্নোক্ত স্থানে অবস্থিত ছিলো (১) কাটিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়, (২) নাজিরহাট ডিগ্রি কলেজ (৩) উদালিয়া চা বাগান। শেষোক্ত ৩টি ঘাঁটি থেকে মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ জনগণের গতিবিধির উপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখা হতো। প্রায় সময় রাজাকারদের সহযোগিতায় গ্রামের ভিতর ঢুকে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করত পাক্ বাহিনী। নিরীহ যুবক-যুবতীদের ধরে নিয়ে হাটহাজারী টর্চার শেলে অমানুষিক নির্যাতনের পর হত্যা করত। এমনকি বিবস্ত্র করে মহিলাদের চুল কেটে নারী-পুরুষ একসাথে রাখা হতো। অনেকেই ক্ষত-বিক্ষত অবস্থায় পালিয়ে বেঁচে যায়। তাঁদের মধ্যে একজন ফরহাদাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব দেলোয়ার হোসেন।

হাটহাজারীর বহু ছোট-বড় অপারেশনের মধ্যে ৩টি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো হচ্ছে (১) মদুনাঘাট পাওয়ার হাউস অপারেশন, (২) নাজিরহাট পুরোনো বাসস্ট্যান্ড অপারেশন (৩) কাটিরহাট ধলই অপারেশন।

মদুনাঘাট পাওয়ার হাউস অপারেশন :

এয়ার ভাইস মার্শাল জনাব সুলতান মাহমুদের নেতৃত্বে মদুনাঘাট পাওয়ার হাউস অপারেশন সফল হয়। উক্ত অপারেশনে সহযোগিতা করেছিলেন কামাল উদ্দীন (সি-ইন-সি), কাজী মুহাম্মদ মহসিন - ধলই, ফোরক আহমদ - ধলই, মাহবুবুল আলম - ধলই, দিদারুল আলম - বটতলী, মোঃ আইয়ুব - বটতলী ও কামাল উদ্দীন - বটতলী হাটহাজারী।

নাজিরহাট পুরোনো বাসস্ট্যান্ড অপারেশন :

৭১ এর ৯ই ডিসেম্বর বিকেল ৩ টার সময় ফটিকছড়ি থানার মুক্তিযুদ্ধকালীন এমপি জনাব মির্জা আবু মনসুর ও বিএলএফ কমান্ডার জনাব আনোয়ারুল আজিমের নেতৃত্বে হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিতিতে আহমদিয়া সুন্নিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা মাঠে ফটিকছড়ির হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের প্রাক্কালে নাজিরহাট পুরানো বাসস্ট্যান্ডে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি চেকপোস্ট বসানো হয়েছিল। রাজাকারদের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একদল পাক হানাদার ঘাতক বাহিনী জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে ৩টি জিপ গাড়ি করে এসে মেশিনগান দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা চেকপোষ্টের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। জীবন-মরণ যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হয়েছিলেন ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা ও অগনিত নিরীহ বাসযাত্রী নারী-পুরুষ। এ খবর শোনার সাথে সাথে মুক্তিযোদ্ধারা উক্ত বাসস্ট্যান্ডে এসে পড়ে। কিন্তু তার আগেই পাক বাহিনী পিছু হটে। এই যুদ্ধে শহীদদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন শহীদ সিপাহী মানিক মিয়া - চট্টগ্রাম, শহীদ ফোরক আহমদ - চট্টগ্রাম, শহীদ সিপাহী অলি আহমদ - খুলনা, শহীদ সিপাহী নুরুল হুদা -  খুলনা, শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ ইসলাম - সন্দ্বীপ।

৭১ এর ১৩ ডিসেম্বর ধলই- কাটিরহাট সম্মুখযুদ্ধ :

ধলই অপারেশন ছিল গেরিলা ও সম্মুখযুদ্ধের সমন্বয়ে একটি জটিল অভূতপূর্ব যুদ্ধ। ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে হাটহাজারী থানার ভয়াবহতম সম্মুখযুদ্ধ ছিল এটি। কাটিরহাট উচ্চ বিদ্যালয় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত একটি স্থান। এই বিদ্যালয়টি ছিল নরঘাতক পাক হানাদার বাহিনী ও ঘৃণ্য রাজাকারদের শক্তিশালী সামরিক ঘাঁটি। এ ঘাঁটি থেকে রাজাকারদের সহযোগিতায় লোকালয়ে হানা দিয়ে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা তাদের স্বাভাবিক কাজ ছিল। তারা নিরীহ সাধারণ জনগণকে ধরে নিয়ে অত্যাচার-নির্যাতন করত। ৭১ সালের ১৩ ডিসেম্বর সশস্ত্র পাক হানাদার বাহিনীর শতাধিক সদস্যের একটি দল রাজাকারদের সহযোগিতায় পূর্ব-গগণে সূর্য উঠার আগে কাটিরহাট বাজারের পূর্বদিকে গুলি করতে করতে গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে ঢুকে পড়ে এবং অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করতে থাকে। একপর্যায়ে পাক বাহিনীর গুলিতে নিরস্ত্র নিরীহ গ্রামবাসী অছি সারাং এর বাড়ির সিরাজুল হক,পিতা- মৃত মকবুল আহমদ শহীদ হন। এ খবর আমাদের কাছে আসার সাথে সাথে থানা কমান্ডার এস.এম. কামাল উদ্দীন (সিইনসি স্পেশাল) এর সভাপতিত্বে বংশাল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যুদ্ধকালীন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও সংগঠকদের এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহসিন গ্রুপের কমান্ডার কাজী মোঃ মহসিন, ইলিয়াছ গ্রুপের কমান্ডার এস.এম. ইলিয়াছ চৌধুরী, মনছুর গ্রুপের কমান্ডার মোঃ আবুল মনছুর, হারুন গ্রুপের কমান্ডার মোঃ হারুন-উর-রশিদ চৌধুরী, প্ল্যাটুন কমান্ডার মোক্তারুল আলম, তাহের গ্রুপের কমান্ডার আবু তাহের, নূরুল আলম গ্রুপের কমান্ডার মোঃ নূরুল আলম, ফজল করিম গ্রুপের কমান্ডার মোঃ ফজল করিম,ইউনুছ গ্রুপের কমান্ডার মোঃ ইউনুছ, ছালে গ্রুপের কমান্ডার মোঃ ছালে জহুর ও আর্মি জহুর।

নরঘাতক পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে কিভাবে এবং কোন পদ্ধতিতে মোকাবিলা করে তাদেরকে নির্মূল বা পরাজিত করে এলাকার জান-মাল ও মা-বোনদের ইজ্জত রক্ষা করা যায় সেই কৌশল নির্ণয় করার জন্য বিস্তারিত আলোচনান্তে সিদ্ধান্ত হয় যে, মুক্তিযোদ্ধা ও সংগঠকগণ এলাকা ত্যাগ করে অন্য কোথাও যাবেন না, সকল বীর মুক্তিযোদ্ধারা তাদের কাছে যা অস্ত্র আছে তা দিয়ে শত্রুর বিরুদ্ধে জীবণ-মরণ যুদ্ধ চালিয়ে যাবেন ও সর্বক্ষণ পাক-বাহিনীকে অস্থির রাখবেন।

আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মোকাবেলা করার জন্য নিম্নলিখিত পদ্ধতি ও কৌশল অবলম্বন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় :

কমান্ডারের নেতৃত্বে ২০টি গেরিলা টিম গঠন করা হয়। প্রত্যেকটি টিমে পাঁচ জন করে অস্ত্রসহ মক্তিযোদ্ধা থাকবে। শত্রু পক্ষ যাতে কোন বাড়িতে অবস্থান নিয়ে অগ্নিসংযোগ,লুটপাট, মা-বোনদের ইজ্জত নষ্ট করতে না পারে সেজন্য গোপন জায়গা থেকে দু’একটি গুলি বা প্রয়োজনে হ্যান্ড গ্রেনেড ছুঁড়তে হবে। যাতে আমাদের একটি গুলির বিনিময়ে শত্রু পক্ষ শত শত গুলি ছুঁড়ে যাতে করে তাদের হাতে মজুদ থাকা গোলা-বারুদ শেষ হয়ে যায়। তাদের পরাজিত করতে হলে প্রথমে গেরিলা পদ্ধতি প্রয়োগ করতে হবে। পরে (Do or die) সম্মুখযুদ্ধ পরিচালনা করতে হবে।

উল্লিখিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধারা থানা কমান্ডার জনাব এস.এম. কামাল উদ্দীনের নেতৃত্বে গ্রুপের কমান্ডারদের নিয়ন্ত্রণে দ্রুতবেগে গ্রামের বিভিন্ন পয়েন্টে ছড়িয়ে পড়ে এবং সিদ্ধান্ত মোতাবেক গেরিলা কায়দায় আল্লাহ্‌র নামে অপারেশন আরম্ভ হয়। শত্রুপক্ষের গতিবিধি লক্ষ্য করে দু’একটি গুলি ও মাঝে মধ্যে হ্যান্ড গ্রেনেড  নিক্ষেপ করার বিনিময়ে পাক হানাদার  বাহিনী শত শত গুলি ছুঁড়তে থাকে। গ্রামের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে যখন মুক্তিযোদ্ধারা অপারেশন শুরু করেন, তখন রাজাকারদের মধ্যে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাদের গুলিতে আহত হওয়ার পর রাজাকারেরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। পাক বাহিনীকে পথ দেখানোর জন্য কারো সহযোগিতা না পাওয়ার কারণে এলোপাথাড়ি গুলি করতে করতে পূর্বে হালদা নদীর পাড় হয়ে দক্ষিণে সেকান্দার পাড়া, উত্তরে বংশালঘাট,পশ্চিমে সৈয়দ কোম্পানির বাড়ি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে, দিশেহারা অবস্থায় এদিক সেদিক ছুটাছুটি করতে থাকে। কোথাও অবস্থান নেয়ার মতো সুযোগ মক্তিযোদ্ধারা পাক বাহিনীকে দেয় নি। প্রত্যেকটি জায়গায় পাক হানাদার বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের দ্বারা আক্রান্ত হয়। পড়ন্ত বিকেলে পাক বাহিনী আত্মরক্ষামূলক গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে কাটিরহাট ঘাঁটিতে চলে যাবার পথ খুঁজতে থাকে, তাদের হাতে থাকা গোলা-বারুদ ফুরিয়ে গেলে মনোবলও ভেঙে পড়ে

এ ধারণা নিশ্চিত হওয়ার পর সব গেরিলা টিম তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে যুদ্ধের কৌশল পরিবর্তন করে সম্মুখ যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। ত্রিমুখী আক্রমণ শুরু করার সাথে সাথে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রচন্ড জীবন-মরণ সম্মুখ যুদ্ধ সংগঠিত হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গুলিতে শত্রু পক্ষের প্রায় নয় জনের মতো সৈন্য নিহত হওয়ার পর তীব্র আক্রমণের মুখে পর্যদুস্থ হয়ে পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে লোকালয় ছেড়ে তাদের ঘাটি কাটিরহাটে চলে যেতে বাধ্য হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তীব্র আক্রমণের মুখে সন্ধ্যার মধ্যে কাটিরহাট ঘাঁটি ও উদালিয়া চা বাগান ত্যাগ করে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে চলে যায়। এ দিনেই উত্তর হাটহাজারী পাক হানাদার বাহিনী ও রাজাকার মুক্ত হয়। এ দিনটি পাক হানাদার মুক্ত দিবস হিসেবে হাটহাজারীর জনগণের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। যে সময় এলাকার নিরীহ নারী-পুরুষ পাক-বাহিনীর ভয়ে গগন বিদারী কান্নায় ভেঙে পড়েছিল ঠিক সে সময় মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে নরঘাতক পাক-বাহিনীর পরাজয়ের সু-সংবাদ সর্বস্তরের জনগণ জয়ের উল্লাসে মেতে উঠে এবং বাংলাদেশের পতাকা হাতে নিয়ে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু শ্লোগান দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদেরকে অভিনন্দন জানিয়েছিল। অবশেষে ৭১ এর ১৬ই ডিসেম্বর হানাদার বাহিনীর নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি অর্জন করে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।

বীর বাঙালির এক সাগর রক্তের বিনিময়ে এই স্বাধীনতার চেতনাই হোক মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী প্রজন্মের সকল কর্ম-কান্ডের প্রেরণার উৎস। আসুন ধর্ম-বর্ণ,দল-মত নির্বিশেষে সবাই মিলে একটি সুখী সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ে তুলি।

ছবি