মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

ঐতিহ্য

হাটহাজারী মেলা :

০১.

মির্জাপুর সরকারহাট বৈশাখী মেলা - প্রতি বৎসর অনুষ্ঠিত হয়।

০২.

মন্দাকিনী মেলা - প্রতি বছর চৈত্র মাসের মধু কৃষ্ণার ত্রয়োদশ তিথিতে অনুষ্ঠিত হয়।

০৩.

এনায়েতপুর ক্ষেত্রপাল - ধলইতে অনুষ্ঠিত হয়

০৪.

ফতেয়াবাদ সূর্যব্রত মেলা - প্রতি বছর মাঘ মাসে অনুষ্ঠিত হয়

০৫.

পুন্ডরীক ধাম মেলা - মেখলে শ্রী পঞ্চমী তিথিতে ৩ দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়

০৬.

মনীরাম সাধুর মেলা - ফতেপুরে অনুষ্ঠিত হতো। ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের পর লুপ্ত।

০৭.

রথ যাত্রা মেলা - ফতেয়াবাদ, হাটহাজারী, গৌরাঙ্গবাড়ী, এনায়েতপুরে অনুষ্ঠিত হয়।

০৮.

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বৈশাখী মেলা - প্রতি বছর ১লা বৈশাখ ২ দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়

০৯.

চুহুর খার দীঘির বলী খেলার মেলা - প্রতি বছর ২৯ চৈত্র অনুষ্ঠিত হয়

গরুর লড়াইয়ের মেলা :

১৯৮০ খ্রিঃ পর্যন্ত হাটহাজারীতে গরুর লড়াই চালু ছিল। এটি চট্টগ্রামের ঐতিহ্যের অংশ। মাঘ ফাল্গুন থেকে চৈত্র বৈশাখ মাস পর্যন্ত গরুর লড়াইয়ের মেলা বসত। ইংরেজ আমলে মদনহাটের তেলী পাড়ার ও মৌলভী নছিউদ্দীনের বিরিষ গরু ছিল লড়াইয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ গরু। ফতেপুরের হাজী নুর আহাম্মদ প্রকাশ কোং, সুফিয়ার বাপ, লাল মিয়া কোং, আবদুর রশিদ কোং, মিস্ত্রী মুন্সি মিয়া এবং উদালীয়ার বিরিষ গরু বরাবরই নামকরা ছিল। ১৯৬৪ খ্রিঃ সুফিয়ার বাপ ও লাল মিয়ার গরু ঢাকার আউটার স্টেডিয়াম প্রদর্শনীর জন্য নেয়া হয়েছিল। পূর্ব পাকিস্তানের গভর্ণর লাল মিয়া কোং এর গরুকে একটি সনদপত্র দেন। ৬০ দশকে যে বিরিষ গরুর দাম ৫০০ টাকা ছিল, আজ হয়ত এর দাম হতো কয়েক লাখ টাকা। খিল্যা পাড়া,ফতেপুর মাঝিরপুল,রাজারাম বিল, বুড়িরপুকুর, সুয়াপুকুর, মদনাহাট, মদনা বিল, ফতেয়াবাদ ধোপারদিঘী,বটতলী, উত্তর মাদার্শা, গড়দুয়ারা, মেখল কামাইয়্যার পুকুরপাড় গরুর লড়াই অনুষ্ঠিত হতো।

হাটহাজারী মৃৎশিল্পের পরিচিতি :

হাটহাজারীর মৃৎশিল্প মূলত একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। মাটির তৈরী পানির কলস, সরা, জলপাত্র, জল কান্দা, মাটির হাড়ি, পাতিল, কড়াই, তরকারির পেয়ালা থালাবাসন, গামলা-বদনা, লবণের বাটি, পিঠা তৈরীর পাত্র, দই, থামুক, হুক্কা, কলকি, ধুপদানি, ফুলদানি, ছাইদানি, মাটির প্রদীপ মড়কা, জ্বালা ইত্যাদি দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় মৃৎপাত্র। ইংরেজ ও পাকিস্তান আমলে বিনিময় প্রথার মাধ্যমে তারা মৃৎশিল্প বিক্রি করত। ফতেপুর কুলান পাড়া, রুদ্রপল্লী, শিকারপুর, চারিয়া ও দক্ষিণ পাহাড়তলীতে ছিল মৃৎশিল্পীদের বাস। কুমারগণের কাজটাই অতীব প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী। বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় কুমারদের মৃৎশিল্প এখন প্রায় লুপ্ত।